রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে সু-কি ও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর মধ্যে বৈঠক হয়। নির্যাতনের মুখে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করতে মায়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু-কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিদেশমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় মায়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে সু-কির কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকের পর ঢাকা ও নেইপিদোর মধ্যে ‘রাখাইন রাজ্যের উদ্বাস্তুদের ফিরিয়ে নেওয়ার আয়োজন’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে উভয় দেশের কর্মকর্তারা আশা করছেন।
দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকের আগে কর্মকর্তারা বসে চুক্তির শর্ত অনেকটা চূড়ান্ত করেন। এদিকে চুক্তির শর্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে নেইপিদো থেকে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে উভয়পক্ষ কিছুটা ছাড় দিয়েছে।’ বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল- রাষ্ট্রসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর সহ সব উন্নয়ন সহযোগীর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মায়ানমার শেষ পর্যন্ত শুধু ইউএনএইচসিআরকে প্রয়োজন মতো কাজে লাগাবে বলে সম্মত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি সই হওয়ার ২ মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। বাংলাদেশ চেয়েছিল কবে নাগাদ প্রত্যাবাসন শেষ হবে তার একটি সময়সীমা। কিন্তু মায়ানমার এই সময়সীমা দিতে রাজি হয়নি। তা ছাড়া গত বছরের অক্টোবরের পর আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়েই নজর থাকবে। পরবর্তীতে সব রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জানা গেছে, মায়ানমার প্রথমে দু’দেশের মধ্যে ১৯৯২ সালের চুক্তির আলোকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার কথা বলেছিল। বাংলাদেশ বলেছে, সেই সময় এবং এখনকার চ্যালেঞ্জ এক নয়। ওই সময় রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পোড়ানো হয়নি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির কিছু অংশ সংশোধন করে নতুন চুক্তির ব্যাপারে মায়ানমার রাজি হয়েছে। এখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহীবিরোধী অভিযান শুরুর জেরে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি থেকে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পুরনো রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ।

No comments:
Post a Comment