বর্তমানে ভারত বর্ষের মধ্যে সব চেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা চলছে আসামে। এমনই অভিযোগ বাঙালি বিদ্বৎ সমাজের। রবিবার মৌলালি যুব কেন্দ্রে বাঙালি নির্যাতন নিয়ে ওই সংগঠনের একটি সভা হয়। সেখানে বিভিন্ন বক্তা আসামের বাঙালি অত্যাচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় শিলচর থেকে এসেছিলেন আমরা বাঙালির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা সভার সভাপতি সাধন পুরকায়স্থ।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমানে ভারত বর্ষের মধ্যে সব চেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা চলছে আসামে। সেখানে ধরে ধরে বাঙালিদের ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢোকানো হয়েছে।” তাঁর আরও মন্তব্য, “শিলচরে ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে বাঙালি। কিন্তু বাঙালিদের নিয়ে আসামেরের কোনও নজর নেই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে একটা মঞ্চ করা। আমাদের বড়ো সমস্যা হচ্ছে ঐক্যের অভাব।ধর্মীয় ভাবে বাঙালি ভাগ হয়েছে। বাঙালি ঐক্য বলতে যা বোঝায় তা হয়নি।”
সাধনবাবু সারাভারত বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির সর্ব ভারতীয় সভাপতি সুবোধ বিশ্বাসের বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেন, “সারাভারত সমন্বয় সমিতির সভাপতি সুবোধ বিশ্বাস সহ ৫৪ জন আসামের শীলা পাথারের হেমাজিতে এখনও বন্দি আছেন। উদ্বাস্তুদের বিপন্ন অবস্থার পরিপেক্ষিতে সরকারের অনুমতি নিয়ে ৫টি সভা করার কথা ছিল। ৬ মার্চের সভা ছিল প্রথম সভা। উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির ডাকে একটা গণজাগরণ শুরু হয়েছিল। এই সময় সরকার চক্রান্ত করে। উগ্র অসমীয়ারা অভিযোগ করে সুবোধ বিশ্বাসকে জেলে ভরা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর মুক্তির দাবি উঠেছে। কিন্তু এখন আসামে অঘোষিত জরুরী অবস্থা চলছে। যাকে তাকে যখন তখন গ্রেপ্তার করা হবে। আমি এই সভা থেকে এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।” তিনি রাজনীতির বাইরে উঠে সর্ব ভারতীয় বাঙালি মঞ্চ গড়ার ডাক দেন।
এদিন আসাম থেকে এসেছিলেন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতা বিধায়কদাস পুরকায়স্থ। তিনি বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, “আসামের বাঙালিরা বহুদিন থেকে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, শোষিত। আমরা এখানে লড়াই করে বেঁচে আছি। বাঙালি হিন্দু ও মুসলিম উভয়েই অসহায়। বহু বাঙালি অসমীয়াকে নিজের মাতৃ ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন বাঁচার জন্য।কিন্তু বাঁচতে পারেনি। আবার তাঁরা বাংলা ভাষাকে গ্রহণ করেছে।” ওই নেতা আরও বলেন, “আমাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে ডাকা হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। ভারত বর্ষের বুকে কোথাও নেই ডি ভোটার, শুধু আসামে আছে।
এনারসি চলছে আসামে। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার ফলে ৫০ হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি চাই, গোটা ভারতের বাঙালির জন্য একটা অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম থাকা দরকার। দিল্লির সরকারকে যদি বুঝিয়ে দিতে পারি সব বাঙালি এক তবে অনেক কিছু করা সম্ভব। বাঙালিকে বাঙালির পরিচয়ে বাঁচতে হবে।”
বাঙালি বিদ্বৎ সমাজের এদিনের অনুষ্ঠানে মনিপুর থেকে এসেছিলেন বেঙ্গল স্টুডেন্টস এর সভাপতি মাহমুদুল হাসান। তিনিও বাঙালি নির্যাতন নিয়ে কথা বলেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাহমুদুল হাসান বলেন, “আঠারোশো শতক থেকে মনিপুরে বাঙালিরা বসবাস করেন। কিন্তু সেখানে আজ আমরা সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত। মণিপুরীরা আমাদের হিন্দু মুসলিমে ভাগ করেছে। কিন্তু এখন আমরা বাঙালিরা এক হয়েছি। হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বাঙালি হিসাবে পরিচয় দিয়ে বাঙালিরা এক হয়েছি। ফলে একজন বাঙালি বিধায়ককে আমরা বিধান সভায় পাঠাতে পেরেছি। আমরা বাংলা ভাষার লড়াই শুরু করেছি সেখানে। বিজেপি সরকার এখানে বাঙালিদের গুরুত্ব দিচ্ছে না। মণিপুরীরা আমাদের ‘মায়ান’ বলে অবজ্ঞা করে। বিহারীদের কিছু হলে বিহারের সরকার কথা বলে অথচ মনিপুরের বাঙালিদের কিছু হলে পশ্চিমবঙ্গের সরকার কিছু বলে না।”
ঝাড়খণ্ড বাঙালি সমাজের নেতা ভেঙ্গু ঠাকুর তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ঝাড়খণ্ডে আদিকাল থেকে বাংলা পড়ানো হত। কিন্তু ঝাড়খণ্ড যেদিন তৈরি হয় সেদিন থেকে বাংলা ভাষা শেষ হয়েছে। আজ সমস্ত বাঙালিকে এক হওয়া দরকার। রাস্তায় নামতে হবে। জেলে যাবো। বলিদান দেবো জীবন। আসাম সরকার, দিল্লির সরকার কি জানে না যে বাংলার জন্য শিলচরে ১১ জন প্রাণ দিয়েছে?
সর্ব ভারতীয় ভাষা মঞ্চের সম্পাদক নীতিশ বিশ্বাস বলেন, “দেশ ভাগ না হলে ভারতের রাষ্ট্র ভাষা হতো বাংলা এবং ভারতের নেতৃত্ব দিত বাঙালিরা। নেতাজিকে চক্রান্ত করে শেষ করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষা, বিবেকানন্দের ভাষা, নেতাজির ভাষাকে অবহেলা করা হচ্ছে, অথচ হিন্দির জন্য সরকার কত টাকা দিচ্ছে। আমরা কোনও ভাষার বিরোধী নই। কিন্তু আমার মাতৃ ভাষাকে মর্যদা দেওয়ার দায়িত্ত্ব আমাদের।
আজ গোটা পৃথিবীতে বাঙালি কোথাও আক্রান্ত হলে সেটা আসামে। নিখিল ভারত বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির নেতা সুবোধ বিশ্বাস বাঙালিদের জন্য কথা বলেছেন। আর সেইজন্য জেলে তিনি। আজ ৫৬ জন বাঙালি নেতা বন্দি।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমানে ভারত বর্ষের মধ্যে সব চেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা চলছে আসামে। সেখানে ধরে ধরে বাঙালিদের ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢোকানো হয়েছে।” তাঁর আরও মন্তব্য, “শিলচরে ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে বাঙালি। কিন্তু বাঙালিদের নিয়ে আসামেরের কোনও নজর নেই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে একটা মঞ্চ করা। আমাদের বড়ো সমস্যা হচ্ছে ঐক্যের অভাব।ধর্মীয় ভাবে বাঙালি ভাগ হয়েছে। বাঙালি ঐক্য বলতে যা বোঝায় তা হয়নি।”
সাধনবাবু সারাভারত বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির সর্ব ভারতীয় সভাপতি সুবোধ বিশ্বাসের বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেন, “সারাভারত সমন্বয় সমিতির সভাপতি সুবোধ বিশ্বাস সহ ৫৪ জন আসামের শীলা পাথারের হেমাজিতে এখনও বন্দি আছেন। উদ্বাস্তুদের বিপন্ন অবস্থার পরিপেক্ষিতে সরকারের অনুমতি নিয়ে ৫টি সভা করার কথা ছিল। ৬ মার্চের সভা ছিল প্রথম সভা। উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির ডাকে একটা গণজাগরণ শুরু হয়েছিল। এই সময় সরকার চক্রান্ত করে। উগ্র অসমীয়ারা অভিযোগ করে সুবোধ বিশ্বাসকে জেলে ভরা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর মুক্তির দাবি উঠেছে। কিন্তু এখন আসামে অঘোষিত জরুরী অবস্থা চলছে। যাকে তাকে যখন তখন গ্রেপ্তার করা হবে। আমি এই সভা থেকে এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।” তিনি রাজনীতির বাইরে উঠে সর্ব ভারতীয় বাঙালি মঞ্চ গড়ার ডাক দেন।
এদিন আসাম থেকে এসেছিলেন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতা বিধায়কদাস পুরকায়স্থ। তিনি বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, “আসামের বাঙালিরা বহুদিন থেকে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, শোষিত। আমরা এখানে লড়াই করে বেঁচে আছি। বাঙালি হিন্দু ও মুসলিম উভয়েই অসহায়। বহু বাঙালি অসমীয়াকে নিজের মাতৃ ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন বাঁচার জন্য।কিন্তু বাঁচতে পারেনি। আবার তাঁরা বাংলা ভাষাকে গ্রহণ করেছে।” ওই নেতা আরও বলেন, “আমাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে ডাকা হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। ভারত বর্ষের বুকে কোথাও নেই ডি ভোটার, শুধু আসামে আছে।
এনারসি চলছে আসামে। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার ফলে ৫০ হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি চাই, গোটা ভারতের বাঙালির জন্য একটা অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম থাকা দরকার। দিল্লির সরকারকে যদি বুঝিয়ে দিতে পারি সব বাঙালি এক তবে অনেক কিছু করা সম্ভব। বাঙালিকে বাঙালির পরিচয়ে বাঁচতে হবে।”
বাঙালি বিদ্বৎ সমাজের এদিনের অনুষ্ঠানে মনিপুর থেকে এসেছিলেন বেঙ্গল স্টুডেন্টস এর সভাপতি মাহমুদুল হাসান। তিনিও বাঙালি নির্যাতন নিয়ে কথা বলেন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাহমুদুল হাসান বলেন, “আঠারোশো শতক থেকে মনিপুরে বাঙালিরা বসবাস করেন। কিন্তু সেখানে আজ আমরা সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত। মণিপুরীরা আমাদের হিন্দু মুসলিমে ভাগ করেছে। কিন্তু এখন আমরা বাঙালিরা এক হয়েছি। হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বাঙালি হিসাবে পরিচয় দিয়ে বাঙালিরা এক হয়েছি। ফলে একজন বাঙালি বিধায়ককে আমরা বিধান সভায় পাঠাতে পেরেছি। আমরা বাংলা ভাষার লড়াই শুরু করেছি সেখানে। বিজেপি সরকার এখানে বাঙালিদের গুরুত্ব দিচ্ছে না। মণিপুরীরা আমাদের ‘মায়ান’ বলে অবজ্ঞা করে। বিহারীদের কিছু হলে বিহারের সরকার কথা বলে অথচ মনিপুরের বাঙালিদের কিছু হলে পশ্চিমবঙ্গের সরকার কিছু বলে না।”
ঝাড়খণ্ড বাঙালি সমাজের নেতা ভেঙ্গু ঠাকুর তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ঝাড়খণ্ডে আদিকাল থেকে বাংলা পড়ানো হত। কিন্তু ঝাড়খণ্ড যেদিন তৈরি হয় সেদিন থেকে বাংলা ভাষা শেষ হয়েছে। আজ সমস্ত বাঙালিকে এক হওয়া দরকার। রাস্তায় নামতে হবে। জেলে যাবো। বলিদান দেবো জীবন। আসাম সরকার, দিল্লির সরকার কি জানে না যে বাংলার জন্য শিলচরে ১১ জন প্রাণ দিয়েছে?
সর্ব ভারতীয় ভাষা মঞ্চের সম্পাদক নীতিশ বিশ্বাস বলেন, “দেশ ভাগ না হলে ভারতের রাষ্ট্র ভাষা হতো বাংলা এবং ভারতের নেতৃত্ব দিত বাঙালিরা। নেতাজিকে চক্রান্ত করে শেষ করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষা, বিবেকানন্দের ভাষা, নেতাজির ভাষাকে অবহেলা করা হচ্ছে, অথচ হিন্দির জন্য সরকার কত টাকা দিচ্ছে। আমরা কোনও ভাষার বিরোধী নই। কিন্তু আমার মাতৃ ভাষাকে মর্যদা দেওয়ার দায়িত্ত্ব আমাদের।
আজ গোটা পৃথিবীতে বাঙালি কোথাও আক্রান্ত হলে সেটা আসামে। নিখিল ভারত বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতির নেতা সুবোধ বিশ্বাস বাঙালিদের জন্য কথা বলেছেন। আর সেইজন্য জেলে তিনি। আজ ৫৬ জন বাঙালি নেতা বন্দি।
সভায় বাঙালি জাতির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ডাক দিয়ে ‘আমরা বাঙালি’ সংগঠনের সম্পাদক তারাপদ বিশ্বাস বলেন, “বাঙালি জাতি জাতিসত্তা আক্রান্ত। নাগরিকত্ব, ভাষা ও জাতিগত দিক দিয়ে ভারতে আজ আক্রান্ত।অসমের মতো নাগরিক পঞ্জি ধরে যদি কাজ হয় তবে গোটা দেশে পাঁচকোটি বাঙালি নাগরিকত্ব হারাবে।
আজ পশ্চিমবঙ্গে ৯৫১টি হিন্দি স্কুল আছে।প্রাথমিক স্কুলে বাংলা নেই। ঝাড়খণ্ড,মনিপুরে বাংলা ভাষা আক্রান্ত। কেন্দ্রীয় সরকার বাঙালি জাতিকে নিঃশেষ করার চক্রান্ত করছে। এর প্রতিবাদ করতে হবে।”
আজ পশ্চিমবঙ্গে ৯৫১টি হিন্দি স্কুল আছে।প্রাথমিক স্কুলে বাংলা নেই। ঝাড়খণ্ড,মনিপুরে বাংলা ভাষা আক্রান্ত। কেন্দ্রীয় সরকার বাঙালি জাতিকে নিঃশেষ করার চক্রান্ত করছে। এর প্রতিবাদ করতে হবে।”

No comments:
Post a Comment