কাটিগড়া: মন্দিরে গরুর মাথা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে আজও কাটিগড়া (কাছাড় জেলা) এলাকা থমথমে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ ও সিআরপিএফ বাহিনীর টহলদারী অব্যাহত রয়েছে।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কাটিগড়ায় এমন ঘটনা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয় তো! এমন প্রশ্নও উঠছে। তবে কাটিগড়ার মধুয়ারপারে বিধায়ক অমরচাঁদ জৈনের বাড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত কালীবাড়িতে শনিবার সকালে গরুর মাথা উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি পুরো পরিকল্পিত। এর পিছনে ছিল দাঙ্গা লাগানোর উদ্দেশ্য। মনে করছেন কাটিগড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার কালীমন্দিরে গরুর কাটা মাথা, কাটা পা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আজ সকালে বিধায়কের বাড়ি লাগোয়া একটি ইট ভাট্টা থেকে ওই পশুর পুরো দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ থেকেই মনে করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবেই এমন ঘটনা সংঘটিত করা হয়েছে অসৎ উদ্দেশ্যে।
এদিকে গতকালের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে কাছাড় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। আটকদের কাটিগড়া থানার অন্তর্গত তিনটিকরি গ্রামের আজার উদ্দিন (২৮), সাবুল হুসেন (২৩) ও আতিকুর সামাদ (৬৬) এবং গেন্ডামাড়া গ্রামের জাকির হুসেন বলে পরিচয় পাওয়া গেছে।
থমথমে কাটিগড়ায় পুলিশ সুপার রাকেশ রোশন আজও এসেছেন। কাটিগড়া থানার ভিডিপি কনফারেন্স হল-এ বিধায়ক অমরচাঁদ জৈন সার্কল অফিসার মঞ্জুর এলাহি বড়ভুইয়াঁ, মহিলা সুরক্ষা সমিতির জামিলা বেগম, কাটিগড়ার থানার ওসি শংকর মণ্ডলের উপস্থিতিতে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ও ভিডিপিকে নিয়ে এক শান্তিসভা অনুষ্ঠিত করেন পুলিশ সুপার। সভায় উপস্থিত সবাই কোনও চক্রান্তে পা না দিয়ে সবাইকে শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে কাছাড় পুলিশ জানিয়েছে, শনিবারের এই ঘটনার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাতে পুলিশ ও সিআরপিএফ বাহিনীর টহলদারী বাড়ানো হয়েছে। এবং গতকালের এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করে এদের জিজ্ঞাসবাদ চালানো হচ্ছে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

No comments:
Post a Comment