গুয়াহাটি উচ্চ আদালতের নিৰ্দেশে মহানগরের পার্শ্ববর্তী আমসাং বন্যপ্ৰাণী অভয়ারণ্যে আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের উচ্ছেদ অভিযানে যু্দ্ধসদৃশ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দফায় দফায় লাঠিচার্জ করতে হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীদের। উচ্ছেদের শিকার মারমুখি জনতার হামলায় জখম হয়েছেন ফরেস্ট রেঞ্জার বিনোদকুমার পায়েং-সহ দুই বনকর্মী বুবুল দাস ও চন্দ্রমোহন দাস। ভুক্তভোগী জনৈক ইসমাইল হক দা দিয়ে বিনোদকুমারকে ঘায়েল করেছে। বহু কষ্টের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হচ্ছে দেখে সে আবেগে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল বলে হাত জোড় করে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলেও গ্রেফতার করা হয়েছে ইসমাইলকে।
এদিকে হাতে গড়া ঘর চোখের সামনে ভেঙে দেওষা হচ্ছে দেখে আইমনা বেগম নামের জনৈক মহিলা মূৰ্ছা যান। এক মহিলা এসকেভেটরের নীচে গিয়ে শুয়ে পড়লে হতভম্ব হয়ে যান অভিযানকারীরা।
আজ দ্বিতীয় দিনের অভিযান চলেছে আমসাঙের জনশিমলুর বিষ্ণুনগর, গারোবস্তি, বতাহঘুলি, কাংকাননগর, ইউসুফনগর, কৈলাসনগরে। তাছাড়া কৈলাসনগরে উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধভাবে নির্মিত নামঘর এবং মসজিদ। আজও গতকালের মতো ১,৫০০ পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী, পাঁচটি এসকেভেটর, ১৫টি হাতি নিয়ে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। আজ দ্বিতীয়দিনের অভিযানে ৩২৪টি স্থায়ী, আংশিক স্থায়ী এবং অস্থায়ী বসতঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। গতকাল এবং আজ নিয়ে একটি মসজিদ, একটি নামঘর সহ মোট ৭৩৪টি ঘর ভাঙা হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানা গেছে।
আমসাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে উচ্ছেদের শিকার প্রকৃত ভূমিহীনদের সরকার পুনঃসংস্থাপনের ব্যবস্থা করবে। তবে কেবল তাঁদেরই সংস্থাপন দেওয়া হবে যাঁরা প্রকৃত বাসিন্দা। মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিকদের এই কথা বলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, লখিমপুর, ধেমাজি ইত্যাদি অঞ্চলে বন্যা ও নদী ভাঙনের শিকার ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইভাবে আমসাং বনাঞ্চলে যে সব প্রকৃত নাগরিক রয়েছেন তাঁদেরও সংস্থাপনের কথা বিবেচনা করে দেখবে তাঁর সরকার। তিনি বলেন, মূলত ধেমাজি, লখিমপুরে নদী ভাঙনের শিকার বহু পরিবার আমসাঙে এসে বসতি গড়েছিলেন। তাঁদের জন্য অন্যত্র ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে।
এদিকে রাজ্যের বনমন্ত্রী প্রমিলারানি ব্রহ্মও বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এখানে ভিটেহারাদের সংস্থাপন সম্পর্কে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকেও আশ্বাস দিয়েছেন মূল নাগরিকদের বাছাই করে এঁদের সংস্থাপনের ব্যবস্থা হবে বলে। তবে বনমন্ত্রী বলেছেন, উচ্ছেদ অভিযান চলবে। আদালতের নিৰ্দেশেই এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে আমসাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে। তিনি বলেন, প্রকৃতি ও জঙ্গলের প্রাণী, বিশেষ করে হাতিদের রক্ষা করতেই আদালত এই নির্দেশ দিয়েছিল। জঙ্গল সাফ হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ব্যাপক। তাই সর্বাবস্থায় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতেই হবে।
আমসাঙে উচ্ছেদ সম্পর্কে মন্তব্য দিয়েছেন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামন্ত্রী নবকুমার দলে। বলেন, সর্বহারাদের পাশে সরকারও থাকতে চায়। কিন্তু হাত-পা বাঁধা। তিনি বলেন, মানবিকতা সম্পর্কে সরকার অতি সচেতন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকৃত ভূমিহীনদের সংস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী দলে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারও আমসাং বনাঞ্চলের নবজ্যোতিনগর, ইউসুফ নগর সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় উচ্ছেদ চালায় প্রশাসন। আরসিসি বিল্ডিং, কুঁড়ে ঘর, মন্দির, মসজিদ, নামঘর, নামঘর কিছুই বাদ যায়নি। প্রশাসন ও বনবিভাগের হাতি, জেসিবি দিয়ে সব গুড়িয়ে দেওয়া হয়। চরম অমানবিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একদিকে, বাস্তু হারাদের আর্তনাদ, অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে অসহায় প্রশাসনের হাতুড়ি উচ্ছেদ চালিয়ে যায়। বুধবারও ফের উচ্ছেদে নামবে প্রশাসন। তবে সহস্রাধিক মানুষের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
গত দুদিন ধরে রাজ্য প্রশাসনের উচ্ছেদে সর্বহারা আর্তদের কান্না দেখে স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ।
আজ সাংবাদিকদের ডেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উচ্ছেদের শিকার মানুষজনকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাঁদের পুনঃসংস্থাপন দিতেও দাবি তুলেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মানবিকতার খাতিরে যদি বিদেশিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া যায়, তা হলে স্থানীয় নাগরিকদের বেলায় বৈষম্য কেন করছে সরকার। আমসাঙের স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ভূমি নেই, অথচ পতঞ্জলির জন্য আছে, এ কেমন কথা।
আজ দ্বিতীয় দিনের অভিযান চলেছে আমসাঙের জনশিমলুর বিষ্ণুনগর, গারোবস্তি, বতাহঘুলি, কাংকাননগর, ইউসুফনগর, কৈলাসনগরে। তাছাড়া কৈলাসনগরে উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধভাবে নির্মিত নামঘর এবং মসজিদ। আজও গতকালের মতো ১,৫০০ পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী, পাঁচটি এসকেভেটর, ১৫টি হাতি নিয়ে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। আজ দ্বিতীয়দিনের অভিযানে ৩২৪টি স্থায়ী, আংশিক স্থায়ী এবং অস্থায়ী বসতঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। গতকাল এবং আজ নিয়ে একটি মসজিদ, একটি নামঘর সহ মোট ৭৩৪টি ঘর ভাঙা হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানা গেছে।
আমসাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে উচ্ছেদের শিকার প্রকৃত ভূমিহীনদের সরকার পুনঃসংস্থাপনের ব্যবস্থা করবে। তবে কেবল তাঁদেরই সংস্থাপন দেওয়া হবে যাঁরা প্রকৃত বাসিন্দা। মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিকদের এই কথা বলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, লখিমপুর, ধেমাজি ইত্যাদি অঞ্চলে বন্যা ও নদী ভাঙনের শিকার ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইভাবে আমসাং বনাঞ্চলে যে সব প্রকৃত নাগরিক রয়েছেন তাঁদেরও সংস্থাপনের কথা বিবেচনা করে দেখবে তাঁর সরকার। তিনি বলেন, মূলত ধেমাজি, লখিমপুরে নদী ভাঙনের শিকার বহু পরিবার আমসাঙে এসে বসতি গড়েছিলেন। তাঁদের জন্য অন্যত্র ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে।
এদিকে রাজ্যের বনমন্ত্রী প্রমিলারানি ব্রহ্মও বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এখানে ভিটেহারাদের সংস্থাপন সম্পর্কে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকেও আশ্বাস দিয়েছেন মূল নাগরিকদের বাছাই করে এঁদের সংস্থাপনের ব্যবস্থা হবে বলে। তবে বনমন্ত্রী বলেছেন, উচ্ছেদ অভিযান চলবে। আদালতের নিৰ্দেশেই এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে আমসাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে। তিনি বলেন, প্রকৃতি ও জঙ্গলের প্রাণী, বিশেষ করে হাতিদের রক্ষা করতেই আদালত এই নির্দেশ দিয়েছিল। জঙ্গল সাফ হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ব্যাপক। তাই সর্বাবস্থায় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতেই হবে।
আমসাঙে উচ্ছেদ সম্পর্কে মন্তব্য দিয়েছেন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামন্ত্রী নবকুমার দলে। বলেন, সর্বহারাদের পাশে সরকারও থাকতে চায়। কিন্তু হাত-পা বাঁধা। তিনি বলেন, মানবিকতা সম্পর্কে সরকার অতি সচেতন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকৃত ভূমিহীনদের সংস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী দলে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারও আমসাং বনাঞ্চলের নবজ্যোতিনগর, ইউসুফ নগর সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় উচ্ছেদ চালায় প্রশাসন। আরসিসি বিল্ডিং, কুঁড়ে ঘর, মন্দির, মসজিদ, নামঘর, নামঘর কিছুই বাদ যায়নি। প্রশাসন ও বনবিভাগের হাতি, জেসিবি দিয়ে সব গুড়িয়ে দেওয়া হয়। চরম অমানবিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একদিকে, বাস্তু হারাদের আর্তনাদ, অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে অসহায় প্রশাসনের হাতুড়ি উচ্ছেদ চালিয়ে যায়। বুধবারও ফের উচ্ছেদে নামবে প্রশাসন। তবে সহস্রাধিক মানুষের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
গত দুদিন ধরে রাজ্য প্রশাসনের উচ্ছেদে সর্বহারা আর্তদের কান্না দেখে স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ।
আজ সাংবাদিকদের ডেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উচ্ছেদের শিকার মানুষজনকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাঁদের পুনঃসংস্থাপন দিতেও দাবি তুলেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মানবিকতার খাতিরে যদি বিদেশিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া যায়, তা হলে স্থানীয় নাগরিকদের বেলায় বৈষম্য কেন করছে সরকার। আমসাঙের স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ভূমি নেই, অথচ পতঞ্জলির জন্য আছে, এ কেমন কথা।
এদিকে,

No comments:
Post a Comment